• বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ১২:০৩ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
‎ববিতে দর্শন বিভাগ কর্তৃক ‘একাডেমিক নাগরিকত্ব’ বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত বাবুগঞ্জে জমি বিরোধে হাতুড়ি পেটা করে পিতা-পুত্র হাসপাতালে পাঠালেন সন্ত্রাসী সাব্বির ‎ববিতে ঝালকাঠি জেলা ছাত্র কল্যাণ সমিতির  নেতৃত্বে নাহিদ – শিফাত গলাচিপায় ছাত্রদলে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ,অবহেলিত তৃণমূল নেতা-কর্মীরা বরিশালে ডিস ব্যবসা দখলকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে অপহরণ ও মারধরের অভিযোগ হানাদার মুক্ত দিবসে ববিতে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন ‎সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ববি শিক্ষার্থী বিশ্বজিৎ অসহায় পরিবারের মানবিক সহায়তার আকুতি ‎বরিশাল দক্ষিণ জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বেলায়েতের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার বরিশাল -০৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন ফরম তুলেছেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সালাউদ্দিন সানু, একের পর এক নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ব্যানারে মিছিল ববি ক্যাম্পাসে,নেপথ্যে কে!

বরিশাল সরকারি মডেল কলেজ : দুর্নীতি, অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবু মামুনের বিরুদ্ধে

অফিস ডেক / ২২৫ Time View
Update : সোমবার, ৭ জুলাই, ২০২৫

বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবু মামুনের বিরুদ্ধে আর্থিক অস্বচ্ছতা,দুর্নীতি,অনিয়ম,সরকারি টাকা আত্মসাৎ,কর্তব্যে অবহেলা,সরকারি অর্থ আত্মসাতে সহযোগীতা প্রদান,স্বেচ্ছাচারিতা,গোপনে নিয়োগ,শিক্ষার্থীদের টিফিনের টাকা নয়ছয়সহ নানা অভিযোগ। সকল অভিযোগ অস্বিকার করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবু মামুন কলেজে যাওয়ার আমন্ত্রন জানালেন।

 

বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজটি সরকারি হলেও শিক্ষার মান বাড়েনি।স্কুলের শিক্ষক দিয়ে কলেজে পাঠদান করানো হচ্ছে। শিক্ষার মানোন্নয়নে নজর না দিলেও দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে ভুয়া বিল-ভাউচার করে দু হাতে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন।বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটিতে ঘটছে অর্থ তছরুপের ঘটনা।অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে প্রতিষ্ঠানটির সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে।

 

অধ্যক্ষের দ্বায়িত্ব নেয়ার পরেই আবু মামুন পছন্দের কয়েকজন শিক্ষকদের নিয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলন।এই সিন্ডিকেট সদস্যদের দেয়া হয় বিধি বহির্ভুত সুযোগ -সুবিধা।এমনকি পরীক্ষার ডিউটি আদায় না করলেও দেয়া হয় পরীক্ষা ডিউটির সম্মানী।

আবু মামুনের আর্থিক অনিয়মের পাশাপাশি দায়িত্বে অবহেলা, প্রশাসনিক পক্ষপাতিত্ব এবং দুর্নীতির কারণে কলেজের সার্বিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে একাধিক শিক্ষকরা জানিয়েছেন।

 

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ফ্যাসিস্ট সাদিক আব্দুল্লাহর ঘনিষ্ঠ অনুচর এহতেশাম উল হককে ২০২৪ সালের ১৪ নভেম্বর বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষের পদ থেকে সরিয়ে দেয়ার পরই ভাগ্য খুলে যায় আবু মামুনের।ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দ্বায়িত্ব পেয়েই দুর্নীতি,অনিয়ম আর আর্থিক অনিয়মে জড়িয়ে পরেন।

 

নিষিদ্ধ গাইড বই চলে,টাকার বিনিময়ে :

 

আবু মামুন দ্বায়িত্ব নেয়ার পর নিষিদ্ধ গাইডের ফেরিওয়ালা হয়ে গেলেন তিনি।সকল শিক্ষকদের পাঞ্জেরী গাইড দিয়ে পরীক্ষার প্রশ্ন করার এবং শিক্ষার্থীদের পাঞ্জেরী গাইড ক্রয়ের জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। কলেজে পাঞ্জেরী গাইড ব্যবহার করায় পাঞ্জেরী প্রকাশনা কর্তৃপক্ষ আবু মামুনকে নগদ তিন লাখ টাকা প্রদান করেন। পাঞ্জেরী গাইড বিষয়ে পাঞ্জেরী প্রকাশনীর সিনিয়র অফিসার আনিসুর রহমানের সাথে বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজের পিছনের গেট এলাকায় (ফকিরবাড়ি রোড) বসে এ নিয়ে রফাদফা হয়। অথচ সরকার গাইড বই নিষিদ্ধ করেছে।সরকারি কর্মচারী হয়েও সরকারের নির্দেশ অমান্য করছেন আবু মামুন। পাঞ্জেরী প্রকাশনীর প্রতিনিধি আনিসুর রহমান টাকা দেয়ার বিষয়টি স্বিকার করে বলেন, তিন লাখ না তবে টাকা দেয়া হয়েছে এটা সত্য।আবু মামুন টাকা পেয়ে তার সিন্ডিকেট শিক্ষক সদস্যদের মাঝে বিতরন করেন।এ ব্যাপারে বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজের একাধিক শিক্ষার্থীরা বলেন,সব প্রশ্ন পাঞ্জেরী গাইড থেকে করা হয়।আমরা বাধ্য হয়ে পাঞ্জেরী গাইড ক্রয় করি। এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন,আবু মামুন স্যার দ্বায়িত্ব নেয়ার পরেই সকল শিক্ষককে পাঞ্জেরী গাইড থেকে প্রশ্ন করার জন্য বলেছেন এবং শিক্ষার্থীদের ঐ গাইউ ক্রয়ের জন্য সাজেস্ট করতে বলেছেন।

 

গাইড বই, আইন কি বলে :

 

১৯৮০ সালের নোটবই নিষিদ্ধকরণ আইনের ৩ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি নোট বই মুদ্রণ, প্রকাশনা, আমদানি, বিক্রয়, বিতরণ অথবা কোনো প্রকারে এর প্রচার করতে বা মুদ্রণ, প্রকাশনা, বিক্রি, বিতরণ কিংবা প্রচারের উদ্দেশ্যে রাখতে পারবেন না। এই আইন অমান্য করলে সর্বোচ্চ সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড অথবা ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রাখা হয়েছে। পরে একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নোটবই নিষিদ্ধকরণ আইনের আওতায় নোটবইয়ের সঙ্গে গাইডবইও বাজারজাত ও বিক্রি নিষিদ্ধ করেন হাইকোর্ট। কিন্তু তারপরও আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজে প্রকাশ্যেই নোট ও গাইড বইয়ের ব্যবহার চলছে। গাইড বই বাজারজাত করতে পাঞ্জেরী ও লেকচার প্রকাশনীর প্রতিনিধিদের সাথে দরকষাকষি করছেন আবু মামুন। শিক্ষার্থীদের পাঞ্জেরী প্রকাশনীর গাইডবই কিনতে ক্লাসে বলে দেওয়ার জন্য লাখ লাখ টাকা ঘুষ নিচ্ছেন। এ ছাড়াও উন্নয়ন তহবিল ও বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনের নামে টাকা দিচ্ছেন ৬ মাসে একাধিকবার।

 

স্টাফ কাউন্সিলের তহবিল দিয়ে ভ্রমন বিলাস :

 

এদিকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ আবু মামুনের বিরুদ্ধে কলেজের স্টাফ কাউন্সিলের তহবিল থেকে ৪৬ হাজার টাকা উত্তোলন করে তার সিন্ডিকেট শিক্ষকদের নিয়ে কক্সবাজার ভ্রমন করেন।প্রতিষ্ঠানটির আয় থেকে শতকরা দু ভাগ টাকা জমা হয় স্টাফ কাউন্সিল ফান্ডে।স্টাফ কাউন্সিলের টাকা গুটিকয়েক ব্যক্তির ভ্রমন বিলাসের জন্য নয় এমন মন্তব্য করেছে এক শিক্ষক।তিনি বলেন,এটা সম্পুর্ন অন্যায় ও অনিয়ম।

 

শিক্ষার্থীদের টিফিনের টাকা আত্মসাৎ:

 

শিক্ষার্থীদের টিফিনের টাকা দিয়ে বাৎষরিক পরীক্ষায় বিরিয়ানী খাওয়ানোর রেওয়াজ রয়েছে।অথচ আবু মামুন দ্বায়িত্ব নেয়ার পরে শিক্ষার্থীদের বিরিয়ানী না খাওয়াইয়ে ১ লাখ ৮০ হাজার টাতা আত্মসাৎ করেছেন বলে কলেজে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

শুধু তাই নয় বাৎষরিক কেনা কাটা বাবদ প্রায় ৮ লাখ টাকার অধিকাংশ টাকা আত্মসাৎ করেছে ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে। সাবেক অধ্যক্ষ এহতেশাম উল হক চলে যাওয়ার পরেই ছোট ছোট ৩৫ টি নামকাওয়াস্তে প্রকল্প বানিয়ে সরকারি অর্থ লোপাট ও অর্থ তসরুপের অভিযোগ উঠেছে।

 

গোপনে তিনজনকে নিয়োগ :

 

বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজ খোদ সরকারি হলেও সরকারি নিয়ম কানুন ও বিধি বিধান লঙ্গন করে তিনকে বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেয়া হয়।মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে অতি গোপনে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবু মামুন এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।নিয়োগের ক্ষেত্রে বিজ্ঞপ্তি পর্যন্ত দেয়া হয়নি। ইলেকট্রিশিয়ান পদে ইউসুফ,কম্পিউটার অপারেটর পদে শামিম ও অফিস সহকারি পদে ওলিকে নিয়োগ প্রদান করা হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd