স্টাফ রিপোর্টার ::
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের বায়লাখালি সংলগ্ন চন্ডিপুর গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিবেশী মকবুল কোতোয়াল ও তার ছেলেকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে সাব্বির নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। বর্তমানে আহতরা বরিশাল শের-এ-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চন্ডিপুর গ্রামের কোতোয়াল বাড়ির সোহাগ ও সাব্বিরের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল।ভুক্তভোগী সোহাগের দাবি, ওই বিরোধের জেরে সম্প্রতি সাব্বির জমি দখলের উদ্দেশ্যে সোহাগের বাগানের ফলজ গাছ কেটে ফেলেন এবং সোহাগের স্ত্রীকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করেন।
এই ঘটনার প্রতিকার চেয়ে সোহাগ তার বড় ভাই মকবুল কোতোয়ালকে জানালে, তিনি বাড়ির প্রতিবেশি স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা লতিফ, মিজান ও শাহিনসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে বিচারপ্রার্থনা করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গতকাল শনিবার ইফতারের পর সন্ধ্যা ৭টার দিকে সাব্বির দেশীয় অস্ত্র ও হাতুড়ি নিয়ে মকবুল কোতোয়ালের ওপর হামলা চালায়। মকবুলকে বাঁচাতে তার ছেলে এগিয়ে এলে তাকেও হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে গুরুতর আহত করা হয়।
অভিযুক্ত সাব্বিরের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তার ভাই সোলাইমান কল ধরেন এবং তার দেয়া বাংলালিংক নাম্বারে সাব্বিরের সাথে কথা বলতে অনুরোধ করেন। পরে সাব্বির মুঠোফোনে জানান,” তিনি মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করেন।” তবে তিনি দাবি করেন, “মকবুল দীর্ঘদিন আওয়ামী রাজনীতির প্রভাব দেখিয়ে আমাকে ঘরছাড়া করে রেখেছিল। এখন সময় এসেছে পাওনা বুঝে নেওয়ার। তাদের অন্যায় আর মেনে নেওয়া হবে না।” তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে ঘিরে নতুন ষড়যন্ত্র এর মাধ্যমে তাকে আবারো এলাকাছাড়া করার চেষ্টা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
ন্যদিকে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে তার বাড়ির একজন প্রতিবেশী জানান, “এই সাব্বির ছেলেটা এলাকায় প্রচন্ড উগ্র। স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাং এর সদস্য যাদের ব্যবহার করে এলাকায় ভয়-ভীতি ও প্রভাব বিস্তার করে বেড়াচ্ছে। আর আজকের ঘটনা তো ও গালাগালি করেই বানিয়েছে, এর নালিশ নিতে না পেরেই ভূক্তভোগীকে আক্রমণ করে পিছন থেকে হাতুরি দিয়ে আঘাত করেছে।”
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ভুক্তভোগী মকবুল কোতোয়াল জানান, সাব্বির তাদের হত্যার উদ্দেশ্যেই মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করেছে। সুস্থ হয়ে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করবেন এবং এই অন্যায়ের সুষ্ঠু বিচার চাইবেন।
বিষয়ে এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, “বিষয়টি সম্পর্কে তারা অবগত নন। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
Sign up for our affiliate program and watch your earnings grow!