স্টাফ রিপোর্টার ::
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে একাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম (এআইএস) বিভাগ এবং মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্ত শেষে প্রশাসনের দেওয়া শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত ঘিরে দেখা দিয়েছে তীব্র ক্ষোভ ও বিতর্ক।
গত ১২ সেপ্টেম্বর ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে একাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের তিনজন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার ও অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছে। শাস্তি প্রাপ্তরা হলেন ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের মো. তরিকুল ইসলাম (নয়ন), মো. শাওন শেখ এবং ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষের মো. সাজ্জাদ হোসেন। প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নয়ন যদি অর্থদণ্ডের টাকা পরিশোধ করেন, তবে তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হবে।
অন্যদিকে মার্কেটিং বিভাগের একমাত্র শিক্ষার্থী শাহরিয়ার শাওনকেও একই ঘটনায় বহিষ্কার করা হয়েছে। শাহরিয়ার ও যদি অর্থদণ্ডের টাকা পরিশোধ করেন, তবে তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হবে।পাশাপাশি মার্কেটিং বিভাগের ১০ জন ও একাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের ১১ জন শিক্ষার্থীকে মুসলিখার মাধ্যমে সাধারণ ক্ষমার আদেশ দেওয়া হয়েছ।
তবে একাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করছেন, প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও পক্ষপাতমূলক। তাদের দাবি, সংঘর্ষে উভয় বিভাগের শিক্ষার্থীরাই সমানভাবে জড়িত ছিলেন, কিন্তু শাস্তির ভার পড়েছে একপক্ষের ওপর। এমনকি তদন্ত প্রতিবেদনে এমন কয়েকজন শিক্ষার্থীর নামও যুক্ত করা হয়েছে, যারা ঘটনাস্থলে উপস্থিতই ছিলেন না।
একজন একাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা ন্যায়বিচার চাই। যারা প্রকৃতভাবে জড়িত, শুধু তাদেরই শাস্তি দেওয়া হোক। নির্দোষ শিক্ষার্থীদের নাম তালিকায় থাকা অন্যায়।”
একাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে পুনরায় নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন। তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, দাবি না মানা হলে আদালতের আশ্রয় নেওয়া হবে।