সোলায়মান তুহিন, গৌরনদী (বরিশাল):
বর্তমান সময়ে দেশের সামাজিক অবক্ষয়ের অন্যতম প্রধান তিনটি সমস্যা—মাদক, বাল্যবিবাহ ও ইভটিজিং। এই তিনটি সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও প্রশাসনের সমন্বিত ভূমিকা নিশ্চিত করতে বরিশালের গৌরনদীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা।
সোমবার (৪ আগস্ট) দুপুর ১২টায় গৌরনদী সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে এ সভার আয়োজন করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
সভাটি শুরু হয় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে। এরপর প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিদের ফুলের শুভেচ্ছা জানিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মতবিনিময় সভার সূচনা হয়।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় দেশাত্মবোধক সংগীত ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অতিথিদের মন জয় করে নেয়। সুশৃঙ্খল পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ পুরো অনুষ্ঠানটিকে করে তোলে অর্থবহ ও ব্যতিক্রম।
মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আরা মৌরী।
তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ রক্ষা করতে হলে আজ থেকেই মাদক, বাল্যবিবাহ ও ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে সচেতন হতে হবে। অভিবাভক, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনকে একসাথে কাজ করতে হবে।”
সভায় সভাপতিত্ত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. অলি উল্লাহ। তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের গণ্ডিতে আবদ্ধ রাখা যাবে না। সমাজের নানা বাস্তব সমস্যা সম্পর্কেও তাদের সচেতন করতে হবে।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল জলিল, পৌর নাগরিক কমিটির সভাপতি ও সিনিয়র সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম জহির, গৌরনদী প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক খন্দকার মনিরুজ্জামান মনির।
তারা সবাই বক্তব্যে সমাজের ভয়াবহ সমস্যা হিসেবে মাদক, বাল্য বিবাহ ও ইভটিজিংয়ের চিত্র তুলে ধরেন এবং এসব রোধে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের সক্রিয় ভূমিকার আহ্বান জানান।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক শহিদুল ইসলাম, শক্তি বিশ্বাস, জিয়াউর রহমান, আক্তারুজ্জামান সুমন, নিগার সুলতানা, মাসুমা পারভিন প্রমুখ। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সিনিয়র শিক্ষক মো. বাদশা।
এছাড়াও অভিভাবক, ছাত্র-ছাত্রী ও গণমাধ্যম কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন এ সচেতনতামূলক আয়োজনে।
আলোচনা সভার মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে, সমাজের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে হলে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, প্রয়োজন ঘরে ঘরে সচেতনতা গড়ে তোলা। এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সামাজিক নেতৃত্বে পরিণত করতে পারে, যা একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়