বরিশালে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (শেবাচিম) অব্যবস্থাপনা, ভোগান্তি ও হয়রানির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিল করেছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (২৮ জুলাই) বিকেল ৪টায় শেবাচিম হাসপাতালের প্রধান ফটকে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এসময় একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে নগরীর সদর রোড অশ্বিনী কুমার হলের সমানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলের নেতৃত্ব দেন সামাজিক আন্দোলনের কর্মী মহিউদ্দিন রনি। এসময় তিনি বরিশালসহ দেশের সকল সরকারি হাসপাতালের সেবাখাতের অনিয়ম দূরীকরণে ৩ দফা দাবি ঘোষণা করেন।
রনি বলেন, “শেবাচিমে চিকিৎসা নিতে এসে মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত। কেউ দায়িত্ব নিচ্ছে না, কেউ জবাবদিহি করছে না। এই স্বাস্থ্যসেবা নয়, বরং এটি ভোগান্তি ও দুর্নীতির সেবা।”
তার ঘোষিত তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—
১. শেবাচিম হাসপাতালসহ বাংলাদেশের সকল সরকারি হাসপাতালগুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন, পর্যাপ্ত দক্ষতা ও নিয়োগ, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও ওষুধ সরবরাহসহ সর্বসাধারণের জন্য সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।
২. স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ দেশের সকল হাসপাতাল গুলোতে দুর্নীতি প্রতিরোধে প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি, দলীয় লেজুর ভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ, ডিজিটাল অটোমেশন এবং স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ট্রাস্ট ফোর্স গঠন করতে হবে।
৩. স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনকে জনগণের ভোগান্তির কথা শুনে তদন্ত সাপেক্ষে পুনরায় সুপারিশ সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের জোরদার পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
মিছিলে অংশ নেয়া শিক্ষার্থী, রোগীর স্বজন ও সচেতন নাগরিকরা জানান, শেবাচিমে ঘুষ ছাড়া সেবা পাওয়া কঠিন। চিকিৎসক, নার্স থেকে শুরু করে ওয়ার্ডবয় পর্যন্ত অনেকেই দায়িত্বে গড়িমসি করেন।
বিক্ষোভকারীরা বলেন, “বরিশালের সবচেয়ে বড় হাসপাতাল হয়েও এখানে কোনো স্বচ্ছতা নেই। সাধারণ মানুষ অসহায়।”
এসময় বক্তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি স্বাস্থ্যখাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান। দাবি মানা না হলে তারা আরও বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।