বরিশালে প্রথম আন্দোলন শুরু হয় ৯ জুন ২০২৪ একই দিনে বিএম কলেজ এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রোগ্রাম হয়। পরবর্তীতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলন তাদের ক্যাম্পাস কেন্দ্রিক থাকে।
◆ কিন্তু বিএম কলেজের আন্দোলন সারা বরিশালে ছড়িয়ে পড়ে। ধারাবাহিক আন্দোলনের পরে ৭ জুলাই ২০২৪ বিএম কলেজের শিক্ষার্থীরা নথুল্লাবাদ ব্লক করে রাখে। তার পূর্বে পরিকল্পিতভাবে বরিশালের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করা হয়। তাদেরকে আন্দোলনে অংশগ্রহণের জন্য উদ্বুদ্ধ করা হয়। বিএম কলেজের সাথে সংহতি জানিয়ে বরিশালের কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ, বরিশাল সরকারি কলেজ, সরকারি মহিলা কলেজ, টেক্সটাইল কলেজ, বরিশাল পলিটেকনিক, আলেকান্দা কলেজ, ইনফ্রা পলিটেকনিক, গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি, গ্লোবাল ভিলেজ, মাহমুদিয়া মাদ্রাসা সহ আরো অনেকগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান( যে সকল ক্যাম্পাসের নাম লিখতে পারিনি তারা ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন)। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে প্রতিনিধি তৈরি করে বরিশালের আন্দোলনকে আরো বেগবান করা হয় এবং সামনের দিকে এগিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা চলতে থাকে। ◆◆ধারাবাহিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে যখন ১৬ জুলাই প্রোগ্রাম রাখা হয় বিএম কলেজের শিক্ষার্থীরা যখন নতুল্লাবাদ অভিমুখে রওনা করবে তখন পূর্বের ন্যায় ছাত্রলীগ বিএম কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর উপর অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। তারা চায় আন্দোলন কে বানচাল করে দিতে ছাত্রলীগের সেই রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে বিএম কলেজের মুক্তিকামী ছাত্র জনতা নতুল্লাবাদ অভিমুখে রওনা করে। এদিকে ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর নারকীয়ভাবে হামলা চালায়। সেই খবর বরিশালের প্রতিটি জায়গায় ছড়িয়ে পড়লে বরিশালের অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নতুল্লাবাদ হয়ে বিএম কলেজ অভিমুখে রওনা করে (বিশেষ করে বরিশাল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট কে এক্ষেত্রে ধন্যবাদ দিতেই হয়) বিএম কলেজের শিক্ষার্থীসহ বরিশালের অন্যান্য শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়ে ১৬ জুলাই বিএম কলেজ থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাইর খেয়ে ছাত্রলীগ পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
◆◆◆তৎকালীন সময়ে বিএম কলেজের অধ্যক্ষ মহোদয় বিএম কলেজে ▪ছাত্রলীগ রাজনৈতি করতে পারবে না বলে তাৎক্ষণিকভাবে ঘোষণা দেন▪ একই সাথে বিএম কলেজের শিক্ষার্থীরাও ছাত্রলীগ বিএম কলেজের রাজনীতি করতে পারবে না ছাত্রলীগের স্থান বিএম কলেজে হবে না বলে ছাত্রলীগ মুক্ত বিএম কলেজ সন্ত্রাসমুক্ত বিএম কলেজ ঘোষণা দেন।
◆◆◆◆আন্দোলন চলাকালীন সময়ে সারা বাংলাদেশের মধ্যে বিএম কলেজ ছিল প্রথম ছাত্রলীগ মুক্ত স্বাধীন ক্যাম্পাস ◆◆◆◆
১৯৭১ সালে পাকিস্তানীদের হাত থেকে রক্ষা পেয়ে যেমন আমরা বাঙালি হিসেবে স্বাধীন হয়েছি ঠিক তেমনি ২০২৪ সালে ১৬ জুলাই বিএম কলেজের শিক্ষার্থীরা ছাত্রলীগ থেকে মুক্তি পেয়ে বি এম ক্যাম্পাস থেকে ছাত্রলীগকে বিতাড়িত করে প্রথম স্বাধীন হিসেবে ঘোষণা দিয়েছিল।
◆◆ ১৮ জুলাই বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিকভাবে পুলিশ বিজিবি সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়েছিল।
আমরা বরিশালের সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিএম কলেজ বা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় কোনটিকে আলাদা করতে চাই না। আমরা বরিশালের ছাত্র জনতা বরিশালকে স্বাধীন করতে পেরেছি এটাই আমাদের বড় প্রাপ্তি। যদি কেউ এই প্রাপ্তি নিয়ে কাড়াকাড়ি করে সে বোকার স্বর্গে বাস করছে।
ইতিহাস ভুলে যাবার নয়। বর্তমান সময়ে ইতিহাস বিকৃত খুব কমই হয়। বরিশালের আন্দোলনের প্রেক্ষাপট নিশ্চয়ই মিডিয়ার কাছে রয়েছে। আমার এখনো মনে পড়ছে বর্তমান বাংলাদেশের
¶¶মাননীয় প্রধান বিচারপতি ডক্টর সৈয়দ রিফাত আহমেদ স্যার বিএম কলেজ এসেছিলেন তখন আমরা তাকে ১৬ জুলাই এর কথা না বললেও তিনি আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন এই বিএম কলেজ থেকে তোমরা ১৬ জুলাই ছাত্রলীগকে বিতাড়িত করেছ আমরা ঢাকায় বসে দেখেছিলাম ¶¶
এগুলো কোনটি মিথ্যা নয়। তাই সবার প্রতি অনুরোধ থাকবে কেউ যেন ইতিহাসকে বিকৃত না করি।
ধন্যবাদ!