স্টাফ রিপোর্টার::

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’। সেই অভ্যুত্থান স্মরণে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এরই অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মহসিনের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানা যায় আগামী১৮ জুলাই ‘বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় মুক্ত দিবস’ ও ‘লীগ মুক্ত দিবস’ কমিটির আহবায়ক দেওয়া হয়েছে বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সঞ্জয় কুমার সরকারকে। কিন্তু তার এই দায়িত্ব পাওয়া নিয়েই তৈরি হয়েছে তীব্র সমালোচনা।
জানা যায় সঞ্জয় কুমার সরকার দীর্ঘদিন ধরে সরাসরি যুক্ত ছিলেন স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে। তিনি ছিলেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি। আওয়ামী সরকারের শাসনামলে একাধিক প্রশাসনিক পদে তিনি সুবিধাভোগী ছিলেন। বিশেষ করে জীবনানন্দ দাশ রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক পদসহ নানা সুবিধা তিনি আওয়ামী রাজনীতির ছত্রছায়ায় লাভ করেছেন।
জীবনানন্দ দাশ রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক থাকা কালে তার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে “শতবর্ষে বঙ্গবন্ধু : অনুভবে অনুধ্যানে” শিরোনামে ৫০০ কপি স্মারক গ্রন্থ প্রকাশ করা হয়, যার জন্য বরাদ্দ ছিল ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। সেই বই শিক্ষার্থীদের কোনো কাজে না লাগলেও প্রকাশনার নেপথ্যে ছিল দলীয় আনুগত্যের প্রদর্শন।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রথম সারির যোদ্ধারা জানান যিনি নিজেই দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দলের ঘনিষ্ঠ ছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে সেই দলের প্রভাবকে ব্যবহার করে যিনি ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুবিধা নিয়েছেন, সেই শিক্ষক কিভাবে ‘লীগ মুক্ত দিবস’-এর নেতৃত্বে আসেন। তিনি কখনোই জুলাই আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের পক্ষে কোনো ভূমিকা পালন করেননি। বরং তিনি নানা সেমিনার ও অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের চাটুকারিতায় ব্যস্ত ছিলেন।
এবিষয় সঞ্জয় কুমার সরকার আহ্বায়ক পদের বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং জানান আমি অফিসিয়াল কোন চিঠি পায়নি, অফিসিয়াল চিঠি পায়লে তখন কথা বলা যাবে।