স্টাফ রিপোর্টার::
বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এর কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে ভোটার নবায়নের শেষ দিনে ঘটেছে চাঞ্চল্যকর এক ঘটনা।
গত বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর ২০২৫) বিকেল ৫টার দিকে ক্যাম্পাসে বহিরাগত কয়েকজনকে সদস্য ফরম পূরণের সময় হাতে-নাতে আটক করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শাহরিয়ার জয় নামে এক যুবকসহ কয়েকজন বহিরাগত ব্যক্তি বিএম কলেজের প্রথম বর্ষের গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী তাবাসসুম শিফা এবং ডিগ্রি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ডালিয়া হালদারের নামে সদস্য ফরম পূরণ করছিলেন। পরে সন্দেহ হলে উপস্থিত ছাত্রদল কর্মীরা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, শাহরিয়ার ও তার সহযোগীরা কেউই বিএম কলেজের শিক্ষার্থী নন; তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রস্তুতি নিচ্ছেন।তারা সদস্য পদ জালিয়াতির জন্য এই ঘটনা ঘটান।
পরবর্তীতে ঘটনার বিষয়ে নিশ্চিত হতে তাবাসসুম শিফার নামে দেওয়া ফরমে থাকা মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করেন। ফোনটি ধরেন শাহরিয়ার জয় নিজেই। কেন তার নম্বর সেখানে দেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে বলেন, “আমি জানি না।” পরবর্তীতে বিষয়টি জানতে চাইলে প্রথমে অস্বীকার করেন তবে
নির্বাচন কমিশন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মনজুরুল রিয়াদ এবং টিম প্রধান কেন্দ্রীয় ছত্রদলের সহ সভাপতি রিয়াদুল রহমান রিয়াদ জানান- সদস্য পদ জালিয়াতি নয় ওরা ভুলে আইডি কার্ড রেখে আসছিলো, পরে এদের আটক করা হয়।এরা আইডিকার্ড দেখালে ছেরে দেওয়া হয়।কিন্তু অভিযুক্ত সাহরিয়ার জানান তিনি বিম কলেজেরই ছাত্র না,তাহলে আইডি কার্ড আসলো কিভাবে?
এছাড়াও ঘটনার সময় শাহরিয়ার, অনুপ, টিপু, রাতুল ও তামিমসহ মোট ছয়জনের নাম পাওয়া গেছে। শাহরিয়ার নিজেই স্বীকার করেন, তিনি বরিশাল ল কলেজ সংলগ্ন ঝাউতলা এলাকার বাসিন্দা এবং বিএম কলেজের শিক্ষার্থী নন।
এ ঘটনার পর প্রার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তারা অভিযোগ করেন, ভোটার নবায়নের নামে বহিরাগতদের দিয়ে জাল ফরম পূরণ করা হচ্ছে। এতে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। একাধিক প্রার্থী বলেন,
“এভাবে বহিরাগতদের অংশগ্রহণে জাল ভোটার তৈরি হলে আমরা নির্বাচন বর্জনের কথা ভাবছি।”
অন্যদিকে কলেজ ছাত্রদলের একাধিক নেতার অভিযোগ, প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় টিম ও নির্বাচন কমিশন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এতে তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।
ছাত্রদলের এক সিনিয়র নেতা জানান, “ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দোষীদের বিরুদ্ধে প্রমাণ মিললে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”