স্টাফ রিপোর্টার
ঝালকাঠিতে দুর্নীতির প্রতিবাদ করতে গিয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে ‘চাঁদাবাজি’র অপবাদ দিয়ে প্রকাশ্যে হেনস্তা করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে তাকে ঘিরে চালানো হয় বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার। শেষ পর্যন্ত দুই পক্ষের আলোচনায় ঘটনাটি ভুল বোঝাবুঝি হিসেবে মীমাংসিত হলেও, এ ঘটনায় ছাত্ররাজনীতি ও স্থানীয় প্রশাসনের নিরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।
গত বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণসহ অনিয়ম, আর্থিক দুর্নীতি, আওয়ামী আমলাদের সিন্ডিকেট বিষয়ে জেলা প্রশাসক, বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার ও প্রধান প্রকৌশলী কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছিলেন ওই শিক্ষার্থী। দীর্ঘদিনেও কোনো তদন্ত কমিটি গঠিত না হওয়ায় বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি সরাসরি ঝালকাঠি এলজিইডি কার্যালয়ে যান তদন্ত অগ্রগতির বিষয়ে জানতে।
কিন্তু সেখানে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদল নেতা ও ঠিকাদার তৌহিদ হোসেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ওই শিক্ষার্থীকে উদ্দেশ করে ‘আমুর দালাল’ বলে কটূক্তি করেন। একপর্যায়ে শুরু হয় উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কিছুক্ষণের মধ্যেই তৌহিদ হোসেন তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েকজনকে ফোন করে ডেকে আনেন। পরিস্থিতি উত্তেজনাকর রূপ নেয়। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন, ব্যাগ ও ওয়ালেট কেড়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ঘটনার সময়কার একটি ভিডিও পরে একটি অনিবন্ধিত ফেসবুক পেজে “চাঁদাবাজি” শিরোনামে প্রকাশ করা হয়, যা দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, ঘটনাটির সঙ্গে চাঁদাবাজির কোনো সম্পর্ক নেই।
পরে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা হয় এবং সবার সম্মতিতে স্বীকার করা হয়—এটি ছিল সম্পূর্ণ ভুল বোঝাবুঝির ফল এবং ‘চাঁদাবাজি’র কোনো ভিত্তি নেই।